চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
স্লোগান ও প্রতিবাদের ভাষা
বিক্ষোভ মিছিলের সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জোরালো স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ‘লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘জামাত-শিবির যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’, ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহুর্তে ক্যাম্পাস ছাড়’, ‘শিবিরের সন্ত্রাস, রুখে দাও, রুখে দাও’ এবং ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই কর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান তাদের প্রতিবাদের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নেতাদের বক্তব্য ও দাবি
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হকের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা হলফ করে বলতে পারি বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রমাণ হয়েছিল স্বৈরাচার কোন সরকার এখানে টিকতে পারেনি। আমাদের বড়ই ভুল হয়ে গেছে একাত্তরের যুদ্ধে অপরাধীদের বিচার করা হয়েছিল কিন্তু ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের পেটুয়া ছাত্র সংগঠন শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
মিঠু আরও বলেন, জামাত-শিবির কখনোই ৭১ নিয়ে কথা বলতে পারবে না। আজকে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্য হত্যার বিচার হতো তাহলে জামাত শিবির কখনোই রগ কাটা রাজনীতি পুনরাবৃত্তি করতে পারতো না। রাবির এই মাটি থেকে তাদেরকে অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি ধর্ম প্রচারের বিষয়ে বলেন, আপনারা যদি ধর্ম প্রচার করতে চান তাহলে কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে, আপনারা ক্লাসরুমে ধর্ম প্রচার করবেন না। ফেসবুকে ধর্মের দোহাই দিবেন না।
অন্যান্য নেতাদের প্রতিক্রিয়া
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামাত শিবিররা যেভাবে দখল করে আছে, তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কলেজে তারা ক্ষমতার যে অপব্যবহার দেখিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, গুপ্ত লেখায় শিবিরের ভাইরা ক্ষিপ্ত হয়েছে, বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জানে কারা গুপ্ত রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছে। আমরা বলতে চাই আপনারা যদি অতি দ্রুত সুশৃংখলভাবে রাজনীতিতে ফিরে না আসেন, তাহলে গুপ্ত রাজনীতি মববাজির রাজনীতি ছাত্রদল আর সহ্য করবে না।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, জামাত-শিবির জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা নিজেদেরকে খুনের চরিত্রে আর্বিভাব করেছে। সুষ্ঠভাবে রাজনীতির যদি ব্যত্যয় ঘটে তাহলে ১৭ বছর যেভাবে গুপ্ত রাজনীতি করেছেন আমরা ছাত্রদল সেই গুপ্ত রাজনীতিতে ফিরে যেতে বাধ্য করবো। তিনি আরও বলেন, যদি বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর, বাংলাদেশপন্থী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের উপরে নির্মমভাবে হামলা করা হয় ছাত্রশিবিরের সেই বিষ দাঁত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিতাড়িত করে পাকিস্তানে ফেলে দিবে।
রাহী আরও বলেন, আজ থেকে জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা আহ্বান জানিয়ে, ছাত্রদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা হলে হলে, লাইব্রেরিতে, চায়ের স্টলে এই জামাত শিবিরের সন্ত্রাসীদের রাজনীতি আবারো নিষিদ্ধ করার আন্দোলন করার আহবান জানাবো।
উপস্থিতি ও সমাপ্তি
বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দীন আবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এশাসহ বিভিন্ন হল, অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এই মিছিলটি রাবি ক্যাম্পাসে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং ছাত্রদলের দাবিগুলোকে আরও জোরদার করেছে।



