চট্টগ্রাম সিটি কলেজে গ্রাফিতি নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১৫
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১৫

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে গ্রাফিতি নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১৫

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দেয়ালে গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুপুরের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই দফায় লাঠিসোটা, ইটপাটকেল, দা ও কিরিচ ব্যবহার করে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্র জানায়, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে পূর্বে আঁকা জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। পরে কলেজের একদল সাধারণ শিক্ষার্থী সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে। সংঘর্ষ চলাকালে একপক্ষ অপর পক্ষের ওপর দা, কিরিচ, লাঠি-সোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হামলায় অংশ নেওয়া কারো কারো মাথায় হ্যালমেট ছিল বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহত ও ক্ষয়ক্ষতি

সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত হয় এবং তার মাথায় ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিক রনি দাবি করেন, হামলায় তার মাথা ফেটে গেছে এবং আঙ্গুলের নখ উঠে গেছে। তিনি বলেন, ‘হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আমাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ দ্বিতীয় দফায় বিকাল ৪টার দিকে তামাকুমন্ডি লেইন বনিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ছাদেক হোছাইনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালানো হয়, যেখানে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতা তামিমের নেতৃত্বেও একটি দল অংশ নেয়।

পুলিশি তৎপরতা ও কলেজের সিদ্ধান্ত

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ‘দেয়াল গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ সংঘর্ষ ক্যাম্পাস থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এদিকে, সংঘর্ষের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স কোর্সের চলমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।