রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো টেনিস কোর্ট সংস্কারে উদ্ধার হলো মর্টারশেল, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের হতে পারে
রাবিতে টেনিস কোর্ট সংস্কারে মর্টারশেল উদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো টেনিস কোর্ট সংস্কারে উদ্ধার হলো মর্টারশেল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জিমনেশিয়ামের পাশে অবস্থিত পুরনো টেনিস কোর্ট সংস্কারের কাজ চলাকালে একটি মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা মাটি খনন করতে গেলে এই মর্টারশেলটি দেখতে পান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সেটি উদ্ধার করেন।

বোমা নিষ্ক্রিয় দল নিরাপদে মর্টারশেল নিষ্ক্রিয় করে

উদ্ধারের পর দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয় দলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদ্ধভূমির পেছনে ফাঁকা মাঠে মর্টারশেলটি নিষ্ক্রিয় করে। নিরাপত্তার জন্য লোকালয় থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রেললাইন থাকায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের হতে পারে বলে ধারণা

উদ্ধার করা মর্টারশেলটি কোন সময়ের হতে পারে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান মনে করেন, এটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শেলটি অনেক পুরনো এবং মরিচা ধরা ছিল। এটি কবেের সেটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। এখানে পাকসেনাদের অবস্থানও ছিল। তাই এই শেলটি তখনকারই হতে পারে বলে মনে হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

শেলটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন টেনিস কোর্ট মেরামতের সময় সেখানকার শ্রমিকরা এই মর্টারশেলটি পান। পরে মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয় দলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে সেটি নিষ্ক্রিয় করেন। নিরাপদভাবে এটি নিষ্ক্রিয় করতে লোকালয় থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাশেই রেললাইন থাকায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুরনো টেনিস কোর্ট সংস্কারের কাজটি এখনও চলমান রয়েছে এবং সেখানে আরও কোনো বিস্ফোরক থাকতে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।