যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী: পরিবারের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগের বরাতে এনবিসি নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিচয়
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা এস বৃষ্টি (২৭)। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছেন, যাকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় তার বাসায় শেষবার দেখা যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিস নিখোঁজের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে, রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে সর্বশেষ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তার নিখোঁজের ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ জানায়, এই দুই শিক্ষার্থী একে অপরের বন্ধু এবং তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর পরিবার বলছে, তাদের এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা নয়। লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ এনবিসি নিউজকে বলেন, "লিমন খুব দায়িত্বশীল মানুষ। কাউকে না জানিয়ে তার কোথাও চলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।"
বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, "তার বোন প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন এবং নিখোঁজ হওয়ার দিনও তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা হয়েছে। সে এমন কিছুই করবে না, যা আমাদের কষ্ট দেবে।" পরিবারের সদস্যরা আরও উল্লেখ করেন, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের ভাবনা ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্কে ছিলেন না।
তদন্তের বিবরণ
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তার ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও অন্যান্য জিনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে রেখে যান, কেবল তার ফোন ও পার্স ছিল না। অন্যদিকে, লিমনের পাসপোর্ট তার বাসায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও শেরিফস অফিস তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের খোঁজে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিবার ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করছে।



