বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন সংলগ্ন মসজিদে আজানের শব্দ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই কর্মচারীর মধ্যে একজনের বদলি করা হয়েছে। অপরজনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
ঘটনার বিবরণ
দৈনিক যুগান্তরে ১৩ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বরিশাল জেলা প্রশাসক এই পদক্ষেপ নেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএনও লিখন বনিকের বাসভবন সংলগ্ন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে আজানের শব্দে সমস্যা হওয়ায় ইউএনওর গাড়িচালক মো. কামাল হোসেনের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের গাড়িচালক মো. মেহেদী হাসান মাইকের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে মুসল্লি, ইমাম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সমঝোতা বৈঠক ও শোকজ
গত ১১ জুন দুপুরে ইউএনও লিখন বনিকের অফিস কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই কর্মচারী দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে একই দিন বিকালে তাদের শোকজ করা হয়।
বদলি ও ব্যবস্থা
শোকজের জবাব দেওয়ার আগেই ১৪ জুন কামাল হোসেনকে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বদলি করা হয়। অপরজন মেহেদী হাসান দৈনিক হাজিরায় কাজ করায় তাকে বদলি করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ আহমেদকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ইউএনও লিখন বনিক বলেন, "গাড়িচালক কামাল হোসেনকে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। মেহেদী হাসান দৈনিক হাজিরায় কাজ করায় তার ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ আহমেদকে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।"
প্রতিক্রিয়া
মুসল্লিরা জানান, শুধু বদলি করলেই বিচার শেষ হবে না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।



