বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে সাড়ে ছয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী রাকা আক্তারের নৃশংস হত্যা ও মরদেহ গোপন প্রচেষ্টার ন্যায্য তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি
সোমবার সকাল ১০টায় সান্তাহার পৌরসভার রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। বক্তারা দ্রুত বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবি জানান এবং বলেন, অন্যান্য আলোচিত হত্যা মামলার মতো এ মামলারও দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
পূর্বের প্রতিবাদ
এর আগে রোববার সকালে ইয়ার্ড কলোনি এলাকায় শিশু রাকার মাদ্রাসা নুরানী ইসলামিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে আরেকটি মানববন্ধন হয়, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ জুন বিকেলে সান্তাহারের সাহেবপাড়া এলাকায় প্রাইভেট স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী বন্যা বেগম ও তার স্বামী আমজাদ হোসেন রাকাকে অপহরণ করে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে মাথায় আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং তার সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে লুকিয়ে ফেলা হয়।
মামলা ও গ্রেপ্তার
নিহতের বাবা রায়হান উদ্দিন প্রামাণিক আদমদীঘি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা আমজাদ হোসেন, বন্যা বেগম ও মো. বাবু নামে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আরেক আসামি আয়েশা সিদ্দিকা আশাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, বন্যা বেগম ১৩ জুন বগুড়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চার আসামিকেই জেলে পাঠানো হয়েছে।
হত্যার কারণ
তদন্তকারীরা জানান, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম বলেন, রাকা আসামি পরিবারের মেয়ে ফাতেমার সাথে খেলাধুলা করত। বাচ্চাদের মধ্যে ঝগড়া হলে তা পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আসামিরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করে।



