যুবদল নেতা হত্যায় রাঙ্গুনিয়া-রাউজানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ
যুবদল নেতা হত্যায় রাঙ্গুনিয়া-রাউজানে সড়ক অবরোধ

উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় তিনটি স্থানে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ শনিবার বেলা দুইটার পর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে ওই সড়কগুলিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

রাউজানে অবরোধ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা দুইটা থেকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম–কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। মাসুদুল হক চৌধুরীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চেয়ে এ সময় সড়কে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এতে দুই পাশে প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে যানজটের তৈরি হয়। একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের আশ্বাসে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

রাঙ্গুনিয়ায় অবরোধ

বেলা তিনটার দিকে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম–রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের রানীর হাটেও অবরোধ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বেলা তিনটা থেকে শুরু হওয়া অবরোধ চলে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। সেখানেও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, অবরোধকারীরা পুলিশের আশ্বাস পেয়ে স্বেচ্ছায় সড়ক ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

আজ বেলা দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে মাসুদুল হক বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাঁচ থেকে সাত অস্ত্রধারী এলাকাটিতে আসে। এরপর মাসুদুল হককে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলির পর অটোরিকশায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। মাসুদুল হকের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

হত্যার কারণ

পুলিশ ও বাসিন্দাদের ধারণা, বালুর ব্যবসা ও দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাসুদুল হক চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও জানান বাসিন্দারা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভিন্ন বিরোধে অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। একই সময়ের মধ্যে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।