টানা বর্ষণে প্লাবিত নাইক্ষ্যংছড়ি, এক শিশুর মৃত্যু
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি, সড়ক ভাঙন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সদরের আদর্শগ্রাম এলাকায় সড়কের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে আবারও উপজেলা সদর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে মোবাইল ফোন চার্জ, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সড়ক ভাঙনে শিক্ষার্থী-রোগীদের দুর্ভোগ
অবিরাম বৃষ্টিতে কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক এবং বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রোগী, বাজারগামী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাহাড়ধসের আতঙ্ক, সড়ক ভাঙন
ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত এলাকার কয়েকটি বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া সদর, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী হাজারো মানুষ পাহাড়ধসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত রয়েছেন। সোনাইছড়ি, দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন খালের তীব্র স্রোতে একাধিক স্থানে রাস্তা ভেঙে গেছে। যদিও এখনো যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি, তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।
অসমাপ্ত সড়ক সংস্কার দুর্ভোগ বাড়িয়েছে
উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও তা সময়মতো শেষ না হওয়ায় ভারী বর্ষণে সড়কগুলো আরও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সতর্কতা
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড়ধস বা ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, “পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত বিদ্যুৎ ও সড়ক মেরামত
স্থানীয়দের দাবি, দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামত এবং পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।



