কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ভেঙে দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলো বাঙ্গরা বাজার উপজেলা। ওই এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পর মুরাদনগর উপজেলা থেকে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়েছে বাঙ্গরা উপজেলা। এ সিদ্ধান্তে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বাঙ্গরা অঞ্চলের বাসিন্দারা।
নিকার সভায় অনুমোদন
বুধবার বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এ উপজেলার যাত্রা শুরু হলো। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো— শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর পূর্ব, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব (সদর), বাঙ্গরা পশ্চিম, চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও টনকী।
আনন্দের জোয়ার
উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিনের দাবি
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এতদিন প্রশাসনিক বিভিন্ন সেবা নিতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। এতে একটি কাজ সম্পন্ন করতেই অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় হয়ে যেত। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন তারা।
আন্দোলন ও বাস্তবায়ন
উপজেলার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করেন। উপজেলা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এ উদ্যোগকে এগিয়ে নেন। অবশেষে নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। উপজেলা অনুমোদন হওয়ায় স্থানীয়রা ধর্মমন্ত্রীসহ এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বাঙ্গরা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, “বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।”
এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, “দলমত নির্বিশেষে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই আমরা বাঙ্গরা উপজেলার অনুমোদন পেয়েছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নতুন উপজেলা ঘোষণার পর বাঙ্গরার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।”
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সূচিত হবে এক নতুন দিগন্ত।



