ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) তত্ত্বাবধানে এবং গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্ধারিত পোশাক ও ভাড়ায় অধূমপায়ী রিকশা প্রকল্পের ভাড়ার চার্ট বসানোর দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
ডাকসুর প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রশাসনের অঙ্গীকার
ডাকসুর মতে, তারা তাদের দিক থেকে যা যা করার— সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফেলেছেন। যেমন রিকশাওয়ালাদের পোশাক (ভেস্ট), রিকশাচালক কারা হবে সেই তালিকা প্রণয়ন, ভাড়ার চার্ট তৈরি প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, তারা যে ১০০ অধূমপায়ী রিকশাচালকের তালিকা করেছিল সেখান থেকে প্রায় ৫০ জন অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো শুরু করেছে এবং তারা আসন্ন ঈদের আগে অথবা পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের জায়গা থেকে সবকিছু রেডি হয়ে আছে, আমরা শুরু করার জন্য প্রস্তুত কিন্তু জাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রি আর এক্সিট পয়েন্টগুলায় লোক লাগবে যেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও দিতে পারেনি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন কাজ গোছাতেই ৩-৪ মাস সময় লেগে যায়, এর মধ্যেই অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “যে ১০০ জন অধূমপায়ী রিকশাওয়ালাদের তালিকা করেছিলাম— তাদের মধ্যে ৫০ জনই আবার সেই অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত ভেহিকেলগুলো নিয়ে নিয়েছে। এখন আমাদের আবার অধূমপায়ী এবং ইয়াং রিকশাওয়ালাদের একটা তালিকা করতে হচ্ছে।” আসন্ন কুরবানির ঈদের আগে অথবা পরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হতে পারে বলে জানান এস্টেট ম্যানেজার।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও ভাড়া বৃদ্ধি
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অল্প দূরত্ব যেতেই শিক্ষার্থীদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়। বর্তমানে তা লাগামহীন অবস্থায় পৌঁছেছে। কোনও তদারকি বা নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন চালকরা। কোনও বিকল্প না থাকায় শিক্ষার্থীরাও বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই চলাচল করছেন।
সম্প্রতি রিকশা ভাড়ার পরিমাণ আরও বেড়েছে। আগে যে স্থানে যেতে ২০ টাকা ভাড়া লাগতো, সেখানে এখন ৩০ টাকার কমে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন চালকরা। স্বল্প দূরত্বের জায়গায় যেতেও সর্বনিম্ন ৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
পূর্ববর্তী উদ্যোগ ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা চলাচল করবে বলে জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। তারও আগে ২০২৩ সালের ১৮ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং বর্তমানে ‘নিষিদ্ধ’ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাস এলাকার দূরত্ব হিসাব করে ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে সর্বনিম্ন ১৫ ও সর্বোচ্চ ৪০ টাকা।



