নরসিংদীর শিবপুরে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখল করে রাখার অভিযোগে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে পুনরায় আবেদন করেছেন গাজী সালমা বেগম নামে এক ভুক্তভোগী নারী। দীর্ঘ সময়েও পূর্বের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে নতুন করে আবেদন করেন।
অভিযোগের বিবরণ
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, তার স্বামী মুরগীবের গ্রামের মৃত মো. ফাসাদ মিয়ার মালিকানাধীন জমি নৌকাঘাটা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ মিয়ার ছেলে আলামিন মিয়া বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে মো. জাহিদ হাসান ইমন ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইউএনও কার্যালয়ে একটি আবেদন দাখিল করেন। তবে প্রায় ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রশাসনিক সমাধান পাওয়া যায়নি।
গ্রামীণ সালিশের ব্যর্থতা
ভুক্তভোগীর দাবি, গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে আলামিন মিয়াকে এক মৌসুমের জন্য জমিতে চাষাবাদের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি শর্ত ভঙ্গ করে টানা দুবছর ধরে জমি দখলে রেখেছেন। একাধিকবার জমি চাষের জন্য প্রস্তুত করলেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক ধানের চারা রোপণ করে দখল বজায় রাখে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পুকুর, লেবু ও লটকন বাগান ব্যবহারে বাধা দিচ্ছেন। এতে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তার বাগানের অর্ধশতাধিক কাঠ গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বের আবেদন ও হুমকি
এর আগের আবেদনে জাহিদ হাসান ইমন অভিযোগ করেন, আলামিন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং চাষাবাদে বাধা প্রদান করছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তা কার্যকর হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে জমির ন্যায্য দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ইউএনও ফারজানা ইয়াসমিন ভুক্তভোগী গাজী সালমা বেগমের অভিযোগ গ্রহণ করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ভুক্তভোগীকে অবৈধ দখল প্রতিরোধ/প্রতিকার/পুনুরুদ্ধার ফরমের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।



