ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শেখ রাজু ইসলাম (৩৮) নামের এক উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড়া এলাকায় ‘মাতৃকুঞ্জ’ নামের একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। নিহত শেখ রাজু ইসলাম সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের শেখ নুর ইসলামের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
পরিবারের বক্তব্য
হ্যাপি আক্তার জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তার স্বামী অসুস্থতার কথা জানান এবং অস্বাভাবিক কিছু কথাবার্তা বলেন। নিহতের মা রাশিদা বেগম বলেন, দুপুরে সে ফোন করে বলেছে- 'মা, আমার আশা-ভরসা তোমরা ছেড়ে দিও। আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো না।' এদিকে ভবনের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ইকরাম আলী শিকদার বলেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে কিছু সমস্যার কথা শোনা গেলেও স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসা করা হয়েছিল।
নিহতের ভাই শেখ রাজ্জাক জানান, মায়ের ফোন পেয়ে দ্রুত ভাঙ্গার বাসায় এসে দেখি, আমার ভাইয়ের লাশের পাশেই ভাবী ও দুইজন ভাতিজা পাশের কক্ষে বসে আছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ভাঙ্গা থানার এসআই হাবিব বলেন, লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



