বিরামপুর উপজেলায় পুনর্ভবা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু নয় বছর ধরে মেরামত না হওয়ায় অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রতিদিন ১৫-১৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
সেতুর ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
২০১৬ সালে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ২০১৭ সালের বন্যায় নদীর স্রোতে ভেঙে পড়ে। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ সেতুটি পুনর্নির্মাণ করেনি।
সেতুটির দুই প্রান্তে পাকা সড়ক থাকলেও মাঝের অংশটি অনুপস্থিত থাকায় যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে ভোগনগর ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সম্প্রদায়গুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব মারাত্মক। সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বিরামপুরে এখন পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে প্রবেশাধিকার কমে গেছে।
কৃষক আরমান বলেন, 'আমাদের পণ্য পরিবহনে এখন প্রায় দ্বিগুণ খরচ হয়। আমরা লাভের আশায় ফসল ফলাই, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।'
আরেক কৃষক সিদ্দিক আলী বলেন, নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা আর এই এলাকায় আসেন না। ফলে কৃষকদের কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাঘাত
শিক্ষাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ও কষ্টকর পথ পাড়ি দিতে হয়, বিশেষ করে বর্ষাকালে।
ছাত্রী সাদিয়া খাতুন বলেন, 'বৃষ্টি হলে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হাঁটে, আবার কেউ কেউ ভাঙা সেতু পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যায়।'
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বছরের পর বছর ধরে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। বাসিন্দারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী নিষ্ক্রিয়তা অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও গভীর করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ব্যাহত করবে।
ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা বলেন, সেতুটি না থাকায় এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 'অনুমোদন ও তহবিল নিশ্চিত হলে কাজ শুরু করা যাবে,' তিনি বলেন।
দিনাজপুর-১ (বিরামপুর-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে এবং শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বারবার আশ্বাস খুব একটা সান্ত্বনা দেয় না। নয় বছর অপেক্ষার পর অনেকেই প্রশ্ন করছেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে আর কতদিন লাগবে?



