সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে নারীদের তীব্র বিক্ষোভ
সোমবার বিকাল ৬টায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়িবহর স্থানীয় নারীদের বিক্ষোভের মুখে আটকে পড়ে। এই ঘটনাটি ভোলাগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের টুকেরগাঁও জোড়া ব্রিজসংলগ্ন ভাঙারপাড় এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে মন্ত্রী পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি মাদ্রাসা ট্রেনিং সেন্টারের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
উচ্ছেদের ভয়ে নারীদের আবেগঘন আবেদন
বিক্ষোভকারী নারীরা, যাদের মধ্যে টুকেরগাঁও গ্রামের সজনা বেগম, আফতেরা, আমিরুন নেছা, হাসনা বেগম, নবীনা, নাঈমা আক্তার ও আয়েশা বেগম অন্তর্ভুক্ত, তারা সরাসরি মন্ত্রীর সামনে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান যে দীর্ঘদিন ধরে তারা খাসজমিতে বসতবাড়ি করে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তারা শুনেছেন যে তাদের ফসলি জমি ও বাড়িঘর ভেঙে মহাসড়কের পূর্ব পাশে একটি ট্রাক টার্মিনাল ও মাদ্রাসার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। গত রোববার বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে লাল নিশান লাগানো হলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জিজ্ঞাসা করেন, "এখান থেকে উচ্ছেদ করলে আমরা যাব কোথায়?" এই আবেগঘন মুহূর্তে তারা মন্ত্রীকে মনে করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুলের পায়ে পড়েন, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জনগণের কথা শুনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি স্থানীয়দের উদ্বেগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে এখানের প্রস্তাবনা বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এই ঘোষণার পর নারীরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মন্ত্রীর জন্য জয়ধ্বনি দেন এবং তার মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন। পরে মন্ত্রী গাড়ির মাথায় উঠে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলান, যা সম্প্রীতির একটি চিত্র তুলে ধরে।
মন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচি
এই ঘটনার আগে মন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের বর্ণি এলাকায় সরবি খাল থেকে কাটাগাং পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও, তিনি তেলিখাল ইউনিয়নে একটি স্টোন ক্রাশার জোন ও ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন, যা তার কর্মসূচির অংশ ছিল। এই সমস্ত কার্যক্রম স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু নারীদের বিক্ষোভটি জমি সংক্রান্ত ইস্যুতে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগকে উন্মোচিত করে।
এই ঘটনাটি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সম্প্রদায়ের অধিকার ও উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে, এবং মন্ত্রীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



