রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের দুই যুবক নিহত
রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের দুই যুবক নিহত

জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) সকালে পরিবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

নিহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার রায়েরছড়া গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (৩০) ও চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল (২৫)।

ঘটনার বিবরণ

গত ৭ মে মাফুল এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফ তার চাচাতো ভাই আমিনুরের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান। তাদের রাজমিস্ত্রী ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ায় পৌঁছে তারা পরিবারকে জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে দালালরা তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত ২৯ মে মাফুল ও আরিফের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

পরিবারের বক্তব্য

মাফুলের মা মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই। যারা তাকে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের বিচার চাই।"

আরিফের বোন কনিকা বলেন, "রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে আমার ভাইকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফোনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেছিল, ‘আমাদের বাঁচাও।’ এখন শুনছি, তিনি মারা গেছে। আমরা তার লাশ দেশে ফেরত চাই।"

আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, "ঋণ করে ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুরের মাধ্যমে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। তিনি কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই এবং দোষীদের বিচার চাই।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দালালের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে দালাল আমিনুর রহমান জানান, তিনি তাদের নিয়ে যাননি। আরএস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তিনি শুধু সহযোগিতা করেছেন।

প্রশাসনের অবস্থান

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।