আবু সাঈদ হত্যা ছিল রাষ্ট্রনির্দেশিত: পূর্ণাঙ্গ রায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আবু সাঈদ হত্যা রাষ্ট্রনির্দেশিত: পূর্ণাঙ্গ রায়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সদস্যরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনিভাবে হত্যা করেছেন বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রনির্দেশিত সহিংস দমননীতির অংশ হিসেবে আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে।

রায় প্রকাশের তথ্য নিশ্চিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আজ সোমবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে আবু সাঈদের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রায়টি ৮০৯ পৃষ্ঠার।

মামলার রায় ও সাজা

গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। এতে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ণাঙ্গ রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

রায়ে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গণবিক্ষোভ রাজনৈতিকভাবে যতই স্পর্শকাতর বা আবেগপ্রবণ হোক না কেন, যতক্ষণ না সেগুলো রাষ্ট্র বা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানে পরিণত হয়, ততক্ষণ তা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত কার্যক্রম হিসেবেই বিবেচিত হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে নাগরিক আন্দোলন ও বেসামরিক জনগণের গণপ্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, এটিকে কোনো সশস্ত্র বা জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে দেখা যাবে না। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রধানত বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন এবং সরাসরি সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেননি। তাঁরা সাংবিধানিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড—উভয়ের বিচারেই বেসামরিক চরিত্র বজায় রেখেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রসিকিউটরের মন্তব্য

আজকে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁরা মনে করেন, রায় সঠিক হয়েছে। রায়ে এখন পর্যন্ত দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ দেখছেন না। এরপরও রায়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। দেখার পর যদি কোনো কারণে কারও বিরুদ্ধে সাজা বাড়ানোর জন্য অথবা অন্য কোনো কারণে আপিল করার প্রয়োজন হয়, তা করা হবে।