কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন। বাকি তিন যুবক ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় ১১ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নিখোঁজ ও আটকে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়
আটকে থাকা তিনজন হলেন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)। বুধবার (২৪ জুন) গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ দিন পর দুইজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জানা যায়।
মানবেতর অবস্থা
আটকে থাকা তিনজন রোদ, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, গোসল কিংবা স্যানিটেশন সুবিধাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
পুশইনের ঘটনা ও বিজিবির প্রতিক্রিয়া
এর আগে গত ১৪ জুন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে অবস্থান নেয়। ঘটনার চার দিন পর, ১৮ জুন রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এরপর মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুইজন নিখোঁজ হন।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
গয়টাপাড়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। মঙ্গলবার রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন।
বিজিবির অবস্থান
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



