কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার পাঁচ যুবক ১০ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন অবস্থান করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের পাহারায় তাদের দিন কাটছে। তীব্র রোদ, ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন তারা। পর্যাপ্ত খাবার, গোসল বা স্যানিটেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ১৪ জুন রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনসহ মোট নয়জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী বাধা দেয়। পরে তারা দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে আশ্রয় নেয়।
বিজিবির পদক্ষেপ
ঘটনার চার দিন পর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় বিজিবি। তবে বাকি পাঁচ যুবক এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
গয়াটাপাড়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, “গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও এলাকাবাসীর বাধায় ব্যর্থ হয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হোক।
বিজিবির অবস্থান
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেব না। পুশইন ঠেকাতে আমরা কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”



