মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে প্রতিদিন পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিএসএফ। কোনোভাবেই বিএসএফ বন্ধ করছে না পুশইন প্রচেষ্টা। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গাদের ঠেলে পাঠাতে শূন্য রেখার ওপারে ওঁৎ পেতেই বসে রয়েছে তারা। বিভিন্ন গ্রুপে লোকজনকে ঠেলে পাঠাতে নিয়ে আসলেও বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের কঠোর প্রতিরোধের মূখে বিএসএফের পুশইন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
শুক্রবার ও শনিবার মুখোমুখি অবস্থান
শুক্রবার ও শনিবার দিনভর বিএসএফ-বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান করে। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠাতে পারেনি। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বড়লেখা সীমান্তের বোবারথল এলাকার কয়েকটি স্পটে বিএসএফ ও বিজিবির এমন চোর পুলিশ খেলায় সীমান্ত এলাকার জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দেড় হাজার অনুপ্রবেশকারী পুশইন করেছে বিএসএফ
জানা গেছে, বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্তের প্রায় ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় পড়েছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশই রয়েছে বড়লেখায়। যার বেশিরভাগ এলাকা খুবই দুর্গম, গভীর জঙ্গলে ঘেরা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বৃহত্তর বোবারথল, পাল্লাথল, কুমারসাইল ও বড়াইল সীমান্ত এলাকা গহীন অরণ্যে ঘেরা। আর বিএসএফ এইসব দুর্গম এলাকা দিয়েই গত একবছরে অন্তত দেড় হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাকে পুশইন করেছে।
স্থানীয় জনতার প্রতিরোধ
গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ বড়লেখার বোবারথল ষাটঘরি ও এর আশপাশের এলাকা দিয়ে পুশইনের জন্য বিভিন্ন গ্রুপে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শূন্যরেখার ওপারে জড়ো করতে থাকে। বিষয়টি বিজিবির নজরে আসতেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করে বিজিবি। সরেজমিনে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বিএসএফ বোবারথল ষাটঘরি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুশইনের জন্য জড়ো করলে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দফায় দফায় বিজিবি হ্যান্ডমাইকে বিএসএফকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এসময় স্থানীয় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে পুশইন ঠেকাতে শূন্যরেখার এপারে অবস্থান নেন।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আতাউর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ বড়লেখার বোবারথল সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি তৎপর রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণও বিজিবিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শনিবারও বিএসএফের কয়েক দফা চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।



