কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ছয়জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সোমবার দুপুরে উপজেলার গয়টাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছবি : প্রথম আলো
শূন্যরেখায় ৩০ ঘণ্টার বেশি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার শিকার ৬ জন ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এর ফলে নারী–শিশুসহ ছয়জন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গতকাল রোববার ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ, দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তাঁরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।
এর পর থেকে ওই ছয়জন আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাঁদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছেন। তবে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় বিশেষ করে নারী ও দুই শিশু দুর্ভোগে পড়েছে।
ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিদের দাবি
ঠেলে পাঠানোর শিকার কয়েকজন দাবি করেন, তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামে। কয়েক দিন আগে তাঁরা দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে বিএসএফ তাঁদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে। তবে তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
পতাকা বৈঠক
ঘটনার পর গতকাল দুপুরে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি জানায়, প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ফলে ছয়জনকে নিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সোনা মিয়া বলেন, ‘ভোরে দুই শিশু, এক নারীসহ ছয়জনকে বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করে। মানবিক কারণে এলাকাবাসী তাঁদের খাবার ও পানি দিচ্ছেন। শিশুসন্তান নিয়ে তাঁরা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
বিজিবির অবস্থান
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুশ ইনের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে। আর পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিরা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। স্থানীয় অনেক মানুষও পুশ ইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত এলাকায় ছিলেন।’



