পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছেন। নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি তাঁর স্ত্রী আফিয়া ঝুমুরকে (৩৪) নিয়ে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের প্রথম লেনে বসবাস করতেন। তিনি লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্ত্রীর বর্ণনা
শহিদুলের স্ত্রী আফিয়া ঝুমুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা একসঙ্গে খাবার খান। পরে শহিদুল ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে কল করে জানান, তাঁর মায়ের জন্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন। সেগুলো দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং কাজ শেষে রাত ৯টা বা ১০টার মধ্যে শহরের বাসায় ফিরবেন। রাত নয়টার দিকে শহিদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তাঁর বড় বোন শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মুঠোফোন চার্জে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। রাত গভীর হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্ত্রী আফিয়া সদর থানায় জিডি করেন।
আফিয়া ঝুমুর আরও জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।
স্থানীয়দের তথ্য
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে এসে স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে নেন শহিদুল ইসলাম। বাবু ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। পরে নিজের ব্যবহৃত দুটি ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘর থেকে বের হন শহিদুল। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোন দুটি রেখে বের হয়ে যান।
মোটরসাইকেলচালক বাবু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শহিদুল ইসলামকে মোটরসাইকেলে করে লোহালিয়া সেতুর ঢালে পৌঁছে দেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।
পুলিশের বক্তব্য
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকালে আফিয়া ঝুমুর নামে এক নারী তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম লোহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি নিজেই ফেসবুকে “উড়াল দেব আকাশে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি।’



