পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে চলা উত্তেজনার অবসান হয়েছে। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে ফেরত নিয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবির অবস্থান স্পষ্ট
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রবিবার রাতে বিএসএফ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার ইচ্ছা জানায়। পরে বিজিবি এতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে চাপ দেয়।’
লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিজিবি শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যে যেকোনো ধরনের পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। বিএসএফকে এ বিষয়ে আমাদের আপত্তি জানানো হয়েছে। পরে তারা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।’
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ১০ জনকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা গাড়িতে তুলে পাশের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেনি এবং সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। তিন দফা পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষই পরবর্তী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।



