নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার ওই কিশোরের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
ঘুষ দাবির অভিযোগে থানা ঘেরাও
মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে রোববার রাতে স্বজন ও এলাকাবাসী তরুণের লাশ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করেন। এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জোবায়েরের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি, উল্টো ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।
নিহত তরুণের পরিচয়
নিহত তরুণের নাম মো. জোবায়ের (১৮)। তিনি পাবনা জেলার সদর থানার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। তিনি বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন; পেশায় হোসিয়ারি শ্রমিক। কাজের ফাঁকে তিনি অটোরিকশা চালাতেন।
মামলার বিবরণ
জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন আজ দুপুরে দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন বন্দর উপজেলার দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার মেহেদী হাসান (২৫) এবং একই উপজেলার কল্যাণদী খালপাড় এলাকার সজিব (২৭)। পুলিশ মেহেদীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন রাত সোয়া নয়টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকায় ছিনতাইকারীরা জোবায়েরের পথ রোধ করে। জোবায়েরের কোমরের নিচে ছুরিকাঘাত করে মেহেদী। তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত জোবায়েরের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।



