জামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ, গ্রামবাসী ও বিজিবির সতর্ক অবস্থান
জামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রোববার গভীর রাতে উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের বিপরীতে সীমান্তের ১০৮০ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় গ্রামবাসীদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থান

পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া জানান, রহিমপুর এলাকার সীমান্তবর্তী ১০৮০ নম্বর পিলার এলাকায় ভারতের একটি গেট আছে। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিএসএফ দুটি পিকআপে লোকজন নিয়ে ওই গেটের কাছে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মাইকিং করে জড়ো হন এবং বিজিবির সঙ্গে সেখানে অবস্থান নেন। তাদের এ কর্মকাণ্ড দেখে বিএসএফ তাদের পিকআপ দুটি সরিয়ে নেয়।

বিজিবির বক্তব্য

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিএসএফ ওই দিক দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল। শুধু সেখানে নয়, আরও বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়েও পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গ্রামবাসীকে নিয়ে তাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে কোথাও তারা পুশ ইন করতে পারেনি। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতি না থাকলেও যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিলেট সীমান্তে জোরদার নজরদারি

ভারত থেকে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সিলেট সীমান্ত এলাকায় জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক সভার পাশাপাশি সীমান্তে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, সিলেট, সুনামগঞ্জের কিছু অংশসহ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৩০২ কিলোমিটারজুড়ে এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ঠেলে পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা

পুশ ইন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, সিলেট সীমান্তে কোনো অপতৎপরতা দেখা যায়নি। বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীন সীমান্তের ৩০২ কিলোমিটারে পালা করে ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।