ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে। ফেরত নিয়ে যাওয়াদের মধ্যে তিন পুরুষ, চার নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মশালগাঁও সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এর পর থেকেই সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটছিল তাদের। বিশেষ করে দলটিতে শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় এক ধরনের সীমান্ত উত্তেজনা।
বিজিবির অবস্থান
ঘটনার পর থেকেই বিজিবি জিরো লাইনে তাদের অবস্থান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিতে টহল জোরদার করে। বিজিবি জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবির জোরালো অবস্থান ও প্রতিবাদের মুখে রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় কেউ অবস্থান করছে না।
বিজিবি কর্মকর্তার বক্তব্য
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সোমবার (৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিএসএফ ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে জিরো লাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কিছুদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যে, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ওই ১১ জনকে আর শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে না। সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে, তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



