নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় প্রতিটি বিওপিতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। এতে সীমান্তে এখন পর্যন্ত পুশইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গত দুই দিন আগে প্রায় ১৫ জনকে বিএসএফ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
বিজিবির সতর্কতা ও টহল জোরদার
নেত্রকোনা-৩১ বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেত্রকোনা বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৭৫ কিলোমিটার মতো সীমান্ত এলাকার রয়েছে। পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধে এই ব্যাটালিয়নের অধীনে অন্তত ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্তঘেঁষা মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়াসহ পুশইনের ঘটনা ঘটছে। এতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুশইন ও চোরাচালান ঠেকাতে বিওপিগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোসহ টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত-সংলগ্ন গ্রামগুলোয় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঘটনা ঘটায় আমাদের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়; কিন্তু নেত্রকোনা বিজিবি টহল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও বাড়িয়েছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা অনেক বেশি। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।
ওই উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিএসএফ যদি ভারতের নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়, তাহলে আমরা বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা করে তাদের আবার ভারতে ফেরত পাঠাব। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শনিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারীর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার কলমাকান্দার বরুয়াকোনা বিওপি এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ১১৮০ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে মহাদেব থানার অন্তর্গত বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০-১৫ জন লোক ভারতের আসাম থেকে ধরে নিয়ে এসে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য জড়ো করা হয়। পরবর্তীতে নেত্রকোনার সব বিওপিতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়াও সম্ভাব্য পুশইন করানো স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করা হচ্ছে। বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ কর্তৃক বর্ণিত নাগরিকদের সেখান থেকে সরিয়ে উপজেলার লেংগুরা বিওপি এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ১১৭৪ এর বিপরীতে ২০০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চিকনী ক্যাম্প এলাকার জিরান ঘাটতাম বস্তি এলাকায় জড়ো করে রেখেছে বলে জানা যায়। ওই স্থানটি সীমান্ত শূন্য লাইন হতে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, পুশইন ঠেকাতে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বৃহস্পতিবার কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে দুর্গাপুর হতে ১৩৭ জনকে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করার চেষ্টা করা হয়; যা বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাঁধায় ব্যর্থ হয়। এই তথ্যটা সঠিক নয়।
সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রামবাসীদের সচেতনতার পাশাপাশি সম্ভাব্য পুশইনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চলছে। রাতের বেলায় সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি বিএসএফকে বুঝানোর জন্য মেগাফোন, লাইট, বাঁশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর সহায়তায়ও টহল করা হচ্ছে এবং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।



