ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির জানাজা মঙ্গলবার দেশের পবিত্র শহর কোমে শেষ হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এরপর মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে।
তেহরান ও কোমে বিশাল মিছিল
সোমবার তেহরানে বিশাল মিছিলের পর মঙ্গলবার কোমে হাজার হাজার মানুষ সাবেক এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ইরানের সরকার আশা করছে, এই অনুষ্ঠান শক্তি ও ঐক্যের প্রদর্শনী হবে, বিশেষ করে ছয় মাস আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর।
শোভাযাত্রায় লোকজন লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড বহন করে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মৃত্যু কামনা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্রাণহানি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনেয়ি ও তাঁর চার আত্মীয় নিহত হন, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সূচনা করে। খামেনেয়ির মরদেহ ও তাঁর আত্মীয়দের মরদেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরাকে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরাকে জানাজা
বুধবার মরদেহবাহী শবযাত্রা ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। নাজাফে ইমাম আলীর মাজারে খামেনেয়ির মরদেহ নেওয়া হবে, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিয়া শিক্ষাকেন্দ্র। পরে তাঁকে কারবালায় ইমাম হোসাইন ও তাঁর ভাই আব্বাসের মাজারে নেওয়া হবে। সপ্তম শতাব্দীতে হোসাইনের মৃত্যু শিয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় ঘটনা।
ইরানের কুদস ফোর্সের প্রশংসা
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিদেশি অপারেশন শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল এসমাইল কানি বাগদাদের 'এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের ব্যাপক পরিকল্পনার' প্রশংসা করে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের 'গভীরতা' প্রকাশ করে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানাজায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন
খামেনেয়ির চূড়ান্ত দাফন বৃহস্পতিবার তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে হবে, যা ইরানের উত্তর-পূর্বের একটি পবিত্র শহর। তিনি ৮৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করেছেন।



