প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সবাই মিলে ভালো থাকতে পারি।’
প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের প্রতি দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ থাকবে, আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কী করতে পারি দেশের জন্য। এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা, আপনাদের কাছে এই আশা রাখছি।’
ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও দেশ গঠনের আহ্বান
গত দেড় দশকে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশ থেকে কেউ একজন, একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে। দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি।’ তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও প্রবাসীদের সমর্থন
প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনাগুলো একে একে তুলে ধরেন। উপস্থিত প্রবাসীরা মনোযোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্য শোনেন এবং তাঁর চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদের বলেছি। দোয়া করবেন যাতে এগুলো বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।’
বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে একটা অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু এখানে একটা বিরাট “তবে” আছে। তবে হচ্ছে যে আমাদের এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদের এর জন্য কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে, আমাদের এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’ তিনি মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট পরিষ্কারের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমি আসার সময় কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে আমার কাছে এবং এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইয়েরাই করছে। আমার দেশের ভাইয়েরা যদি এখানে এত সুন্দর কাজ করতে পারে তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না।’
ওয়ান-ইলেভেন প্রসঙ্গ ও প্রতিশোধমুক্ত রাজনীতি
১/১১ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন, বিশেষ করে ওয়ান–ইলেভেনের সময় এবং তারপরেও আমার সঙ্গে, আমার মায়ের সঙ্গে, আমার ভাইয়ের সঙ্গে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা কল্পনা করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়তো অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটা করি, তাতে উপকার কী হবে, বলতে পারেন? কারও উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’
প্রবাসীদের দাবি ও কর্তব্য
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা প্রবাসী। অবশ্যই দেশের প্রতি আপনাদের দাবি আছে। পাশাপাশি দেশের প্রতি আপনাদের কর্তব্যও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী হিসেবে আপনার যেমন দেশের প্রতি কর্তব্য আছে, দেশি হিসেবে আমাদেরও দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। আসুন আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে চিন্তা করি দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে। আমরা দেশ থেকে কী নেব—এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলব। চেষ্টা করব এ দেশের আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করতে।’ দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তারেক রহমান।



