মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন হানজালার মেজাজ হারানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর খণ্ডিত অংশে তাকে একটি সালিশ বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ২০ জুন (শনিবার) ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
কয়েক দিন আগে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় একটি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সালিশ বৈঠকে বসেন তিনি। সালিশ চলাকালে তার উপস্থিতিতেই পক্ষ-বিপক্ষের লোকজন উচ্চবাচ্য এবং তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে একপর্যায়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং দুপক্ষকেই কঠোর ভাষায় শাসান।
এমপি হানজালার ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য পীরজাদা মাওলানা হানজালা। তিনি আজ জানান, একটি সালিশে বসে দুপক্ষ যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু করে দিয়েছিল, তখন পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং তাদের নিবৃত্ত করতেই আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে সেই সালিশটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে এবং দুপক্ষই তা মেনে নিয়েছে।
সালিশ বৈঠকের পটভূমি
জানা গেছে, উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে গত ২২ মে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মারামারি-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এমপি হানজালাকে মধ্যস্থতার জন্য ডাকা হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তারা মিয়াসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। দুপক্ষের অভিযোগ উপস্থাপনের সময় গ্রামের প্রচলিত নিয়মভঙ্গের কারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ পরে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, আমি বিচার করার জন্য এসেছি। কাউন্টার দিলে আমি দিব।’
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার আরও কিছুটা নমনীয় ও ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল।



