জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেছেন, যাদের ডাকে তার সন্তান মারা গেছে তারা তার খোঁজ-খবর নেয়নি, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে যাওয়ার পরও তারা বিন্দুমাত্র সাহায্য করেনি। তিনি বলেন, সারজিসের সঙ্গে তার চারবার দেখা হয়েছে, সারজিস তার বাসায় পর্যন্ত গেছেন। তিনি সারজিসকে বলেছিলেন তার ছোট ছেলে জিসানের কেমোথেরাপি দিতে পারছেন না এবং নিজের সার্জারি করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ তিনি কোনো দরজায়ই নক করেননি এমন নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য
শনিবার (৪ জুলাই) আগারগাঁওয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বিএনপিকে কখনও গিয়ে খুঁজতে হয়নি, তারা নিজেরা তার পাশে ছিলেন।
একটি ১৩ বছরের বাচ্চা থার্ড স্টেজের ক্যানসারে আক্রান্ত, তার জীবনে আর কী চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে। তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ১৪ দিন আগে, বড় ছেলে মারা যাওয়ার সাত মাস ১৩ দিনের মাথায় তার স্বামী ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যান।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ
তিনি বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে ছোট ছেলেকে হারানোর আর কী আছে। তিনি এই দুঃসময়ে ছোট ছেলেকে বাঁচানোর লড়াইয়ে এতটাই অসহায় হয়ে পড়েন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে যাওয়ার পরও তারা বিন্দুমাত্র সাহায্য করেনি। তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে তিনবার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গিয়ে সারা দিন বসে থাকেন, কেমো দেওয়ার পরে উপদেষ্টা তাকে বলেন, তার হাতে কিছু নেই। তার সন্তান চিকিৎসা পায় না, কারণ সে শহীদের ভাই।
বিএনপির পরিবারের সহায়তা
এই খবর কোনোভাবে বিএনপির পরিবারের কাছে পৌঁছায়। তিনি শুধু তার ছেলের তিনটি কেমো খুব কষ্ট করে দিতে পেরেছিলেন, চার নম্বর কেমো থেকে আল্লাহর রহমতে তারেক রহমানের পরিবার 'আমরা বিএনপির পরিবার'কে তার পাশে পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, জীবনে বাঁচার লড়াইয়ে তারা তার ছেলের পাশে এবং তার পাশে কীভাবে ছিলেন তা তিনি বোঝাতে পারবেন না।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান) লন্ডনে থাকা অবস্থায় তার জিসানের খোঁজ-খবর নেন এবং বলেন, জিসানকে বলবেন শক্ত থাকতে। জিসানের জন্য যা করা লাগে তিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী করবেন। তিনি শুধু মুখে কথা বলেননি, প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তার ছেলে দুটি সার্জারি হয়েছে। গত বছর ৮ তারিখ দ্বিতীয় সার্জারি হয়। রুমন ভাই নিজে হাসপাতালে গিয়ে জিসানকে দেখে আসছে। বিএনপির পরিবারের প্রত্যেক সদস্য তার এবং জিসানের পাশে ছিল। তিনি তাদের কৃতজ্ঞতা বলে শেষ করতে পারবেন না।



