জামায়াতের সাত দফা প্রস্তাব: সাংবিধানিক সংস্কার থেকে স্থানীয় নির্বাচন
জামায়াতের সাত দফা: সাংবিধানিক সংস্কার থেকে স্থানীয় নির্বাচন

জামায়াত-ই-ইসলামী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা, সীমান্তে ভারতের বিএসএফ-এর গুলি ও ‘পুশ-ইন’, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, প্রশাসনের রাজনীতিকরণ এবং পতিত ফ্যাসিস্ট শাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচারকাজের ধীরগতির বিষয়ে সাত দফা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন

প্রস্তাবের প্রথম দফায় বলা হয়েছে, গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্য বজায় থাকে।

বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ

দ্বিতীয় প্রস্তাবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাজার মনিটরিং জোরদার, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া শিল্প উৎপাদন ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনশৃঙ্খলায় শূন্য সহনশীলতা

তৃতীয় প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল ও সন্ত্রাসের ঘটনা বেড়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ধর্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্তে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সীমান্ত ইস্যুতে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশে অবৈধ পুশ-ইন চালাচ্ছে এবং বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করছে। সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়া, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতা বাড়ানো, শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং ভারতের পানি নীতির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও প্রশাসনের রাজনীতিকরণ বন্ধ

চতুর্থ প্রস্তাবে জামায়াত বলেছে, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে দ্রুত নির্বাচন জরুরি। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রশাসক হিসেবে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও জুলাই গণহত্যার বিচার

পঞ্চম প্রস্তাবে বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন, ভাতা ও অবসর সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে। ষষ্ঠ প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিমুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সপ্তম প্রস্তাবে জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার দ্রুত করার দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে-শুরা সভায় এই প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা জানানো হয়। জামায়াত বলেছে, এই প্রস্তাবগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।