জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশ কি শুধু মুসলমানদের জন্য স্বাধীন হয়েছে নাকি সব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের জন্যও স্বাধীনতা এসেছে?
বাজেট আলোচনায় ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “একটু আগে আমাদের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ অর্থনীতির ওপর অনেক সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ইসলামিক ব্যাংক অর্থাৎ ইসলামিক সিস্টেমের যে ব্যাংকগুলো, তিনি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি- মানে বিএনপি; যার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আদর্শ, ধর্মীয় মূল্যবোধ। এখানে পার্টিকুলার কোনও ধর্মের কথা বলা হয় নাই। যত ধর্মের লোক আছে তাদের মূল্যবোধকে আপহোল্ড করা।”
ইসলামিক ব্যাংকে হিন্দুদের চাকরি না দেওয়ার ঘটনা
গয়েশ্বর রায় ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “একটা ইসলামিক ব্যাংকের ডাইরেক্টর, এখন জামায়াতে ইসলাম করে, এক সময় করতো না। তাকে একদিন একটা চাকরির জন্য বললাম যে, তোমার ব্যাংকে একটা চাকরি দাও। বললো, দাদা নামটা পাঠিয়ে দেন। নাম পাঠিয়ে দিলে বলে দাদা স্যরি ও তো হিন্দু, এই চাকরি তো আমি দিতে পারবো না।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “ব্যাংকের নামের আগে যদি ইসলাম থাকে, সেখানে যদি মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের লোক চাকরি করতে না পারে, এটা যদি কোনও আইন হয় তাহলে বলতে পারি, আমি হিন্দু, আমি মসজিদে যেতে পারবো না বা মাদ্রাসায় যেতে পারবো না, যাওয়া উচিত হবে না আমার, ঠিক আছে। কিন্তু এটা ব্যাংক, এটা কোনও মসজিদ বা মাদ্রাসা না। এটা কি বৈষম্য না ইনজাস্টিস?”
জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ
গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, “এটা কি মুসলমানের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছে? না এটা সব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে যারা জন্মগ্রহণ করছে তারা দেশ স্বাধীন করছে? আমি আপনার মাধ্যমে এটার ব্যাখ্যা চাইবো। যেহেতু আমি জানি না, আন্দালিব রহমান পার্থ বলতে পারবেন এটার ব্যাখ্যা। এটা সত্যি কিনা? যদি সত্যি হয়, তাহলে ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স, ইসলামিক ব্যাংক, সব ইসলাম নাম দেওয়া। ইসলামিক সুইট, ওটাও আবার ওই সুইটের দোকানের মিষ্টি কিনে খাইতে পারবো কিনা সেটাও আমার জানা নাই।”
তিনি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদ নীতি তুলে ধরে বলেন, “এই বাজেটের মধ্যে দর্শন আছে, এই বাজেটের মধ্যে রাজনীতি আছে। এই বাজেটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে জিয়াউর রহমান একটা জাতি উপহার দিয়েছেন, সেই জাতির নাম বাংলাদেশি। জিয়াউর রহমান কিন্তু এটা ইসলামিক বাংলাদেশ ঘোষণা দেন নাই। তিনি ধর্মকে আপহোল্ড করছেন। অর্থাৎ সব ধর্মের মূল্যবোধ। সব ধর্মের মূল্যবোধ মানে কিন্তু একই লক্ষ্য, কোনও ধর্মই মানুষকে খারাপ কথা বলতে বলে নাই, কোনও ধর্মই মানুষকে অসৎ পথে চলতে বলে নাই, কোনও ধর্মই কিন্তু খুন-খারাবি রাহাজানিকে পছন্দ করে নাই।”
বিরোধিতার পাশাপাশি পথ দেখানোর আহ্বান
গয়েশ্বর রায় বলেন, “আজ বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না। বিরোধিতার পাশাপাশি আমার মনে হয় পথ দেখানোর বিষয়। পথ না দেখে শুধু আমি বিরোধিতা করবো, সেই বিরোধিতায় আমাদের সামনে আনবে না, সেই বিরোধিতায় আমরা এগিয়ে যাবো না।”



