নেত্রকোনার পূর্বধলায় হামলা, মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নেত্রকোনা আদালতে উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের হলরুমে কুরবানি পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক চলাকালে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন বিকালে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
মামলার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশে এ মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা হলো—ওই সময় আমাদের নেতাকর্মীরাই হামলার শিকার হয়েছেন এবং এ বিষয়ে আমরা অনেক আগেই পূর্বধলা থানায় মামলা করেছি। এখন আমাদের করা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়-ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাউন্টার মামলা করেছে। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নির্দোষ নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



