সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। রোববার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ড. ইউনূসকে ‘মিষ্টভাষী ভিলেন’ বলে অভিহিত করেন।
গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তন সম্ভাবনা নষ্টের অভিযোগ
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে দল গঠন করতে গিয়ে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস গলা টিপে হত্যা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৮ মাসের পুরোটা সময় ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস কাটিয়েছে এনসিপি গঠন করার পেছনে। এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকটা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অঙ্কন করে দেওয়া।’
বৈঠকে সমালোচনার কথা জানান রাশেদ খাঁন
বিএনপি নেতা দাবি করেন, ‘ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যতবার বৈঠকের সুযোগ হয়েছে, আমি তার ও তার সরকারের সমালোচনা করেছি। আমি কাছ থেকে দেখেছি, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের মিষ্টি কথার আড়ালে সংকীর্ণ মানসিকতা।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তিনি (ড. ইউনূস) নির্বাচন দিতে সম্মত হচ্ছিলেন না। বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, এটা তিনি চাচ্ছিলেন না। তিনি বিএনপিকে জাতির কাছে কালার (নেতিবাচক ভাবমূর্তি) করার জন্য তার সময় অতিবাহিত করছিলেন। কিন্তু তিনি পারেননি। কারণ, বিএনপি গণমানুষের দল। বরং ১৮ মাসে জাতির সামনে তার মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। আমার চোখে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস একজন মিষ্টভাষী ভিলেন।’
ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সমালোচনা
রাশেদ খাঁন ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, ‘যারা তাকে (ড. ইউনূস) নায়ক মনে করেন, আমি তাদের বলবো- আপনারা ভুল। তার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাগত জীবনের বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলেই তার সম্পর্কে জানতে পারবেন। তিনি তার লোভ সংবরণ করতে পারেননি। তরুণদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে তিনি সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রায় ১৮ মাস ক্ষমতায় ছিল।



