আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম সরকারি দলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ
সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছে কি না, এই প্রশ্ন রেখে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ, চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?’
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে বিএনপির ভূমিকা
জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে কেন বিএনপির এত পছন্দ। তাঁকে পদে রাখার জন্য কোনো দিক থেকে বিএনপি ইঙ্গিত পেয়েছে কি না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে চাইলে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।
জামায়াতের নেতাদের স্মরণ
নিজের বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন আজহার। তিনি দাবি করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের এই নেতাদের মিথ্যা মামলায় ‘জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা’ করা হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে আজহার বলেন, এটি হলে আইনের শাসন কায়েম হবে।
বাজেটের সমালোচনা ও সুদমুক্ত অর্থনীতির দাবি
প্রস্তাবিত বাজেটকে অতি উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর আখ্যা দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক চাপ এবং বৃহৎ রাজস্ব–ঘাটতির মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
পরিচালন ব্যয়ের চাপ ও সুদের বোঝা
এ টি এম আজহার বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার প্রস্তাব
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড পরিমাণ দায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ‘ফিন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট’ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুদ একটি বড় পাপ—উল্লেখ করে আজহার বলেন, বেশির ভাগ মুসলমানের দেশে সুদ চলতে দেওয়া যায় না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক রিটেইল সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প বিবেচনা করা যায়।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশকে এক দুই বছরের মধ্যে সুদমুক্ত করা যাবে না। তবে প্রচেষ্টা শুরু হলে, জনগণের টাকা নিয়ে জনগণের উপকার করে সুদমুক্ত ব্যবস্থা চালু করা গেলে ধীরে ধীরে দেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
গত ২২ জুন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন।



