দেড় বছরের বেশি কমিটিহীন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, নেতৃত্ব সংকটে তৃণমূল
দেড় বছরের বেশি কমিটিহীন মৎস্যজীবী দল, নেতৃত্ব সংকটে তৃণমূল

বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কেন্দ্রীয় কমিটিহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে সংগঠনটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় থাকলেও ‘রাজনৈতিক বসন্তের’ এই সময়ে এসে পদ-পদবি না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন অনেক নেতাকর্মী। কেউ কেউ পদ পাওয়ার আশায় অন্য অঙ্গসংগঠনে ভিড়ছেন, আবার অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আবদুর রহিমকে সদস্য সচিব করে ১৫৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ আগস্ট আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এর ঠিক এক মাস পর, ২৩ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত নতুন কোনো কমিটি গঠিত হয়নি।

আন্দোলনে ভূমিকা ও বর্তমান সংকট

সংগঠনটির নেতাকর্মী জানান, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মৎস্যজীবী দলের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়ে হরতাল, অবরোধ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তারা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা ভাঙার সময় একবার রুহুল কবির রিজভী এবং আরেকবার আসাদুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে দলটির কর্মীরা সাহসিকতার পরিচয় দেন। এই আন্দোলনে গিয়ে বহু নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তারা বলেন, দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক সমস্যাগুলো সমাধান করা যাচ্ছে না। সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আবদুর রহিম সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মিছিল-মিটিং চালিয়ে গেলেও আইনগত ভিত্তি না থাকায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। মৎস্যজীবী দলের অনেক দক্ষ কর্মী এখন দিকভ্রান্ত হয়ে অন্য অঙ্গসংগঠনে পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে মূল সংগঠনটি শক্তিশালী হওয়ার বদলে দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভবিষ্যৎ কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব

জানা গেছে, আগামী কমিটিতে সভাপতি পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব আবদুর রহিমের নাম সব মহলে আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় আছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান ও জাহাঙ্গীর আলম সনি। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহ আলম ও উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরও কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।

তৃণমূলের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

তৃণমূলের অন্য সক্রিয় নেতাদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম বাসার, তারিকুল ইসলাম মধু, লোকমান হোসেন হাওলাদার, হাজী আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত ১৫-২০ জন নেতা পদপ্রত্যাশী হয়ে কেন্দ্রীয় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আবদুর রহিম বলেন, দলের দুঃসময়ে সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আমরা রাজপথে ছিলাম। কমিটি না থাকায় এখন তৃণমূলের সাংগঠনিক সমস্যাগুলো সমাধান করা যাচ্ছে না। আশা করি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত একটি দক্ষ ও গতিশীল কমিটি দিয়ে সংগঠনটিকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। যুবদল, ছাত্রদলে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পর অন্যান্য সংগঠনগুলোর কমিটি আসবে। ইতোমধ্যে দায়িত্বশীল নেতারা কাজ শুরু করছেন।