রাজনীতি মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার এক বিচিত্র উদাহরণ তৈরি করলেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের বানেশ্বর বর্মণ। টানা ১৫ বছর চুলে কাঁচি ছোঁয়াননি তিনি। অবশেষে চলতি সপ্তাহে নিজের বাসভবনের সামনে প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে মাথা ন্যাড়া করে দীর্ঘদিনের সেই সংকল্প পূরণ করলেন তিনি।
প্রতীকী প্রতিবাদের গল্প
কোচবিহারের বামন পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বানেশ্বর বর্মণ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। ২০১১ সালে তিনি এক অদ্ভুত শপথ নিয়েছিলেন, যতদিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন তিনি চুল কাটবেন না। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সেই জটাধারী রূপ নিয়েই ইটভাটায় কাজ করে গেছেন এই বিজেপি সমর্থক।
ক্ষৌরকর্মের দিন
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছেই নরসুন্দরের কাছে মাথা সঁপে দেন বানেশ্বর। এত লম্বা চুল নিয়ে কাজ করতে অসুবিধা হতো কি না, এমন প্রশ্নে হেসেই উত্তর দিলেন তিনি। জানালেন, সবসময় চুলে খোঁপা বেঁধে রাখতেন তিনি। বানেশ্বর বলেন, ‘তৃণমূল সরকার আসার পর থেকে আমি নাপিতের দোকানের চৌকাঠও মাড়াইনি।’
ভোটের ফল ঘোষণার দিনটি ছিল বানেশ্বরের জন্য বিশেষ। তিনি বলেন, ‘৪ মে ফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই টিভির পর্দায় চোখ আটকে ছিল। যখনই বিজেপি ১০০ আসনের গণ্ডি পার হলো, আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আজ আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’
স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা
১৫ বছরের এই প্রতীকী প্রতিবাদ শেষে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। বানেশ্বরের কথায়, ‘বিজেপি যখন এসেই গেছে, তখন মাথায় নতুন চুলও গজাবে। এরপর যখন খুশি চুল কাটব।’
বানেশ্বরের এই ক্ষৌরকর্ম দেখতে এলাকায় বেশ ভিড় জমেছিল। মাথা ন্যাড়া করার পর এই খুশি উদযাপনে উপস্থিত গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মুড়ি বিতরণ করা হয়।
জেদের কারণ
১৫ বছরের এই জেদ কেন ছিল, তা জানাতে গিয়ে বানেশ্বর বলেন, গত দেড় দশকে তার এলাকায় কোনও উন্নয়নই হয়নি। এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। এলাকায় দৃশ্যমান কোনও পরিবর্তন না আসায় তিনি মনেপ্রাণে ক্ষমতার পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আর সেই পরিবর্তনের স্বাদ পেতেই বিসর্জন দিলেন নিজের দীর্ঘ লালিত কেশরাশি।
সূত্র: এনডিটিভি



