কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না। রোববার (২৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২১তম বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, 'আমি অনুধাবন করতে পারছি এ চেয়ার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। সংসদের এসি রুমে বসে এসি গাড়িতে চড়ে বাসায় সবসময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করে জনগণের সমস্যা বুঝা যায় না। এ জন্য সংসদে যখন আমরা দাঁড়াই জনগণের সমস্যা অনুধাবন করতে পারিনা।'
তিনি জুলাই আহত ও গত ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের মুখ দেখানোর জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন।
কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা
এনসিপির এ সংসদ সদস্য বলেন, 'একটা কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবার লড়াই ছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, যদি এটা ২০১৪ সালের সংসদ হতো তা হলে যে প্রস্তাবগুলো এ পাশ (বিরোধী দল) থেকে দেওয়া হয়েছে ঐকমত্য কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে, এ সংসদের একজনকেও খুঁজে পাওয়া যেত না এ সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিতো।'
মানবাধিকার কমিশন বিলুপ্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মানবাধিকার কমিশনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে আরও শক্তিশালী করে এ সংসদে পুনরুত্থান করা হবে। সবকিছুই তো সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদি নিয়ত সহিহ থাকতো, এ অর্ডিন্যান্স এখানে গ্রহণ করে পরে সংশোধন করা যেত।'
প্রজন্মের ভাষা অনুধাবনের আহ্বান
সবাইকে প্রজন্মের ভাষা অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, 'সরকারি দল বিরোধীদল একটি আপেক্ষিক বিষয়, সবাইকে আহ্বান জানাবো প্রজন্মের ভাষাকে অনুধাবনের চেষ্টা করুন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান যে প্রজন্মের আমরা একই প্রজন্মের, আমি চাইবো আপনারা সবাই আমাদের ধারণ করার চেষ্টা করবেন। শুধু বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির নয় বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি।'
ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলতা ও দমন রাজনীতি
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। আমরা এমন এক বাংলাদেশে ফিরতে চাই না যেখানে দমনের রাজনীতি চলে।'
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, 'রাজনৈতিকভাবে কাউকে নির্মূল করার রাজনীতি আমরা চাই না। নির্মূল বা দমনের রাজনীতি করে কেউ লাভবান হতে পারবে না। আমরা আর সেই বাংলাদেশে ফিরতে চাই না।'



