বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা এবং পাবনা ও কুমিল্লায় ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনা
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও ডাকসুর নারী নেত্রী জুমার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত। হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'
গুজব ও হত্যার হুমকি
তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া আইডি থেকে গুজব ছড়ানো হয়। তিনি তা অস্বীকার করে নিজের পেজে পোস্ট দেওয়ার পরও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে জিডি গ্রহণ না করে তাকে আটকিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী থানায় এলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের মারাত্মকভাবে আহত করে।'
পুলিশের ভূমিকায় উদ্বেগ
তিনি পুলিশের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'পুলিশের যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জালিম শাসকগোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে পুলিশের এ ভূমিকা অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। পুলিশের এই ন্যক্কারজনক ভূমিকায় দেশবাসী খুবই উদ্বিগ্ন।'
পাবনা ও কুমিল্লায় হামলা
তিনি বলেন, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। এছাড়া ২৩ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে আহত করা হয়। এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাঙ্গনে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সমুন্নত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছাত্রদের জান-মালের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ছাত্রদল শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।'
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
তিনি আরও বলেন, 'শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সব পক্ষকে রাজনৈতিক উসকানি পরিহার করে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।'



