পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দলটির অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) একটি চিঠি জমা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই এই তথ্য জানিয়েছে।
মমতার বৈঠকের মধ্যেই নাটকীয় ঘটনা
গুরুত্বপূর্ণ হলো, তৃণমূলের এই চরম সংকটের মুহূর্তেই দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির একটি বৈঠকে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন এমপি রয়েছেন।
দলের অভ্যন্তরে ক্রমাগত বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং একের পর এক হাই-প্রোফাইল নেতার পদত্যাগের পর নতুন এই নাটকীয় ঘটনার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এখন এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়লো।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য
স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, আমারসহ তৃণমূলের প্রায় ২০ জন এমপি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি লিখেছি। আমরা এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলায় নির্বাচনের রায় মেনে নিয়েছি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ এনডিএ জোটের সঙ্গেই মেলানো উচিত।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, তিনি এখনও লোকসভায় দলের চিফ হুইপ হিসেবে বহাল আছেন এবং সহকর্মী এমপিদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংকটের গভীরতা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূলের ভেতরে যে বিদ্রোহের সুর প্রথম দেখা দিয়েছিল, তা এখন দলটির সংসদীয় শাখায় পৌঁছানোর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হলো।
এর আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি সুখেন্দু শেখর রায় দল এবং উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা) উভয় থেকেই পদত্যাগ করেন। ইতোমধ্যে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।



