ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে কংগ্রেসের নীরবতা, মিত্ররা সমর্থন জানিয়েছে
ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে কংগ্রেস নীরব, মিত্ররা সমর্থন

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ নিয়ে এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে তাদের মিত্র ও আরও কয়েকটি বিরোধী দল এরই মধ্যে অপ্রথাগত রাজনৈতিক দল সিজেপির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভের কারণ ও দাবি

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গড়ে ওঠা দল সিজেপি। গত শনিবার তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ুয়া অভিজিৎ দিপকের ডাকে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি দেশজুড়ে আলোড়ন তুললেও কংগ্রেস নেতারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন।

কংগ্রেসের নীরবতার কারণ

দলীয় কয়েকটি সূত্রের মতে, কংগ্রেসের সন্দেহ, সিজেপি আম আদমি পার্টির (এএপি) সমর্থনপুষ্ট, তাই দলটি আপাতত ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পদক্ষেপ গ্রহণের’ নীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির ব্যাপক উপস্থিতি, টেলিভিশন বিতর্কে তাদের বেশি সময় দেওয়া এবং রাজধানীতে বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের দলের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস বিভাগের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনাত সিজেপির নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, তাঁরা দৃঢ়ভাবে জেন-জি বা জেনারেশন জেডের পাশে রয়েছেন। সুপ্রিয়া লেখেন, ‘কংগ্রেস সব সময়ই সামনে থেকে সক্রিয়ভাবে জেন-জিদের দাবি দাওয়ার পক্ষ নিয়েছে। তারা এটা নিশ্চিত করছে যে তরুণদের কথা যেন শোনা হয়, তাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হয়, তাদের উদ্বেগের সমাধান করা হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করা হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত এক মাসে এনএসইউআই ও ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সিবিএসই মূল্যায়নসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বলেও জানান তিনি।

মিত্র দলগুলোর সমর্থন

সিজেপির চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেস চুপ থাকলেও তাদের মিত্র সমাজবাদী পার্টি (এসপি), তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), শিবসেনা (ইউবিটি), আরজেডি, সিপিআই (এমএল) ও সিপিআইয়ের (এম) মতো দলগুলো এই বিক্ষোভকে স্বাগত জানিয়েছে।

রাজ্যসভার তৃণমূলের উপনেতা সাগরিকা ঘোষ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ক্ষুব্ধ তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনকে তাঁর দল সমর্থন করে এবং এটি সরকারের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। বাচ্চারা (শিক্ষার্থীরা) আত্মহত্যা করেছে, তবুও কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।

আরজেডি মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি বলেন, ‘আরজেডি ও আমাদের নেতা তেজস্বী যাদব প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে।’

লোকসভা সদস্য রাজীব রাই বলেন, এটি সরকারের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। তিনি বলেন, ‘তরুণেরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন, যা সরকারের আত্মসমালোচনার কারণ হওয়া উচিত। ১৯৭০–এর দশকে আমরা জে পি আন্দোলন দেখেছিলাম আর এখন আমরা একই ধরনের পরিস্থিতির কথা বলছি। সরকারের উচিত জনগণের এই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা।’

শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ‘তেলাপোকাদের কখনোই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।’ যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলন সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। উদ্ধব বলেন, ‘যাঁদের আমরা দেশের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যনির্ধারক বলি, হাজার হাজার তরুণ—তাঁরা নিজেদের যন্ত্রণা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকে তীব্র গরমের মধ্যেও রাস্তায় নেমেছেন।’

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বিক্ষোভ তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ‘তাঁদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে মোদি সরকারের উচিত তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধান করা। আপ তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে।’

সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকটের জন্য তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’