রাজশাহীতে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠানে লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি
রাজশাহীতে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠানে লাল কার্ড হুঁশিয়ারি

রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যোগদান অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন কার্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, 'আমরা পেয়েছি কতগুলো কার্ড, যে কার্ডগুলো পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে। এই কার্ডে যদি টাকা না আসে, তাহলে আমরাও একটা কার্ড বানাব, সেই কার্ডের নাম হলো লাল কার্ড। এই লাল কার্ড আমরা সরকারের হাতে ধরিয়ে দেব।'

রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী দলে যোগ দিয়েছেন বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন দল থেকে যোগদান

অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে এনসিপিতে যোগ দিতে আসা প্রায় ৫০ জনকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁরা আগে কে কোন দলের রাজনীতি করতেন এবং তাঁদের পদ কী ছিল, তা অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারকে হুঁশিয়ারি

অনুষ্ঠানে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'বাংলাদেশে যদি আপনি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে আপনার গদি থাকবে কি না, সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। কারণ, জনগণ ভোট দিয়েছে। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই জনগণের বাক্সে যদি কেউ লাথি মারতে চায়, আমরাও তাঁর গদিতে লাথি মারতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করব না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফারাক্কা লংমার্চ দিবস প্রসঙ্গ

ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের কথা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'এই দিনে রাজশাহী থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড় যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দিবসে মাওলানা ভাসানী ভারতের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, পানির ন্যায্য অধিকার ছাড়ব না। সেই ভাসানীর যে মার্কা ছিল, তা বিএনপি চুরি করে আজ ভারতের বিরুদ্ধে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। যদি তোমরা ভাসানীর মার্কা নিতে পারো, তাহলে তাঁর নীতিও নিতে হবে। না হলে ভাসানীর মার্কা ফেরত দাও।'

সারজিস আলমের বক্তব্য

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, 'অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হতো, এখনো হচ্ছে। যেসব কারণে একটি অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই কাজগুলো যদি বিএনপির নেতা-কর্মীদের দিয়েই আবারও হয়, তাহলে আমরা আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই রাজনীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ আর টিকে থাকতে পারবে না।'

সারজিস আলম আরও বলেন, 'বিএনপি বলে, আমরা শুধু বিরোধিতার জন্য কথা বলি; কিন্তু আমরা কি আর সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চাই? অন্য কোনো দেশের দাদাগিরি দেখতে চাই? যারা ক্ষমতায় আসতে না আসতেই এসব শুরু করেছে, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ হতে পারে না।'

যোগদানকারীদের তালিকা

যোগদান অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়, রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৫০০ জন এনসিপিতে যোগদান করেছেন। মঞ্চে জিয়াউর রহমানের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কুয়েত বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন পারভিন ও আইনবিষয়ক সম্পাদক হোসেন মাহমুদ, বাগমারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হক, গোদাগাড়ী কলেজের অধ্যাপক হাবিবুর রহমানসহ প্রায় ৫০ জনের গলায় ফুলের মালা দিয়ে মঞ্চে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও উপস্থিতি

যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনসিপির মহানগরের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান।