সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারের অটল অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন— পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এমন বৈঠক নির্দিষ্ট সময় পরপর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, “সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা ও মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।” প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের প্রতিনিধিদের বক্তব্য অধীর আগ্রহের সঙ্গে শুনেছেন।
সংবাদপত্র শিল্পের সমস্যা ও সমাধান
বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, বিগত সরকারগুলোর আমলে বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এছাড়াও, তারা সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান, তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবরকে গুরুত্ব দেন। প্রকাশিত খবরের কোনো সমস্যার কথা উঠলে তিনি তার খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, “বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদপত্রকে সরকার এনকারেজ করেন সেটা প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের জানিয়েছে।”
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
বৈঠকে নোয়াবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
- সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান
- কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির
- সদস্য এ কে আজাদ
- দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান
- দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম
- ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন
- বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ
- করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক
- পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী
- ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রকাশক নাসিম মনজুর
সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
- তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
- তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
- প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
- অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন
এই বৈঠকটি সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নোয়াব সদস্যদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।



