প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি: তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রতিশ্রুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি: তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্র শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও বকেয়া বিল পরিশোধে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকেরও ঘোষণা দেন, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও উপস্থিতি

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ছাড়াও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সংবাদপত্র শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

বৈঠক শেষে মতিউর রহমান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সংবাদপত্র শিল্প বর্তমানে নানা চাপের মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ সবচেয়ে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, “সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকবে কি না, এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।” প্রধানমন্ত্রী এই সংকটের কথা শুনেছেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্র শিল্পের সুখ-দুঃখ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, কারণ তিনি দীর্ঘদিন একটি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী নোয়াবের সকল দাবি-দাওয়ায় একমত পোষণ করেছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও, তিনি উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রেস ফ্রিডম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি কাউকে হোস্টাইল করতে চাই না,” যা একটি অভূতপূর্ব বক্তব্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য দাবি ও প্রতিশ্রুতি

বৈঠকে সাংবাদিকদের হয়রানি, গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মামলা এবং সরকারের কাছে বকেয়া বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়গুলো ভালোভাবে দেখবেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে, তিনি বলেছেন যে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকরা বিনা কারণে জেলে আছেন কিনা বা তাদের জামিন দেওয়া যায় কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে।

ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত আলোচনা সম্পর্কে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, তাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন, তবে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

ঐতিহাসিক বৈঠকের ফ্রিকোয়েন্সি

বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা যে তিনি তিন মাসে একবার সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, কেননা আগের সরকারগুলোর সময় এই ধরনের বৈঠক খুবই বিরল ছিল। মতিউর রহমান চৌধুরী তুলনা করে বলেন, “শেখ হাসিনার সময় ১৬-১৭ বছরে একবার বৈঠক হয়েছে, আর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ১৮ মাসে একবার বসেছিলেন।” এই নিয়মিত বৈঠক সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোপরি, এই বৈঠকটি সংবাদপত্র শিল্পের টিকে থাকা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতি গণমাধ্যম জগতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।