এসি বাস-মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা শিগগিরই প্রণয়ন ও ডিজিটাল প্রদর্শনের ঘোষণা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এসি বাস-মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে প্রশ্ন ও মন্ত্রীর জবাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১২তম দিনে সকালের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা একটি লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলাচল ও সঠিক ভাড়া নির্ধারণ করে তা কার্যকর করার লক্ষ্যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৭ অনুযায়ী প্রতিটি মহানগর এলাকা, বিভাগ এবং জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন ও কর্মপরিধি নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এছাড়া সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ এর বিধি ৬০(ক) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি কর্তৃক রাস্তার ধারণক্ষমতা বিবেচনাক্রমে স্ব-স্ব অধিক্ষেত্রে পরিবহনযানের সংখ্যা নির্ধারণ ও রুট পারমিট অনুমোদন করা হয়ে থাকে।
ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল উদ্যোগ
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৪ এর ২ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, গণপরিবহনের জন্য ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে উক্ত পুনঃনির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বিআরটিএ'র ভাড়ার তালিকা বিআরটিএ ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয় এবং গণপরিবহনের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠান বা মালিককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে গণপরিবহনের নন-এসি বাস বা মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা রয়েছে। তবে শিগগিরই এসি বাস বা মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য ভাড়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপটি গণপরিবহন খাতে সুশৃঙ্খলা আনয়ন এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



