বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি জারি রেখেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে এক সভায় তারা এই সিদ্ধান্ত নেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে না ফেরার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তৌফিক আলমের অপসারণ দাবি করা হয়েছে।
৭২ শিক্ষকের পদত্যাগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে থাকা অন্তত ৭২ জন শিক্ষক তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন একজন সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর ও ছয়জন সহকারী প্রক্টর, সব হলের হাউস টিউটর ও সহকারী হাউস টিউটর, ছাত্র উপদেষ্টা, পিএসসি, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কেন্দ্র, আইকিউএসি, রিসার্চ সেলের পরিচালক, দুজন প্রভোস্ট, ২৫টি বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ছয়জন ডিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক শিক্ষক ছুটিতে থাকায় এখনো পদত্যাগপত্রে সই করতে পারেননি। আশা করি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তারাও বরিশালে ফিরে এসে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করবেন।’
কমপ্লিট শাটডাউনে অচল বিশ্ববিদ্যালয়
গত সোমবার থেকে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। মঙ্গলবারও তা অব্যাহত থাকে। ক্যাম্পাসজুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনিক ভবনের সব দপ্তরে তালা ঝুলছে।
আন্দোলনের পটভূমি
২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়।
শিক্ষকরা জানান, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চলবে বলে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু গত শনিবার ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন।
উপাচার্যের বক্তব্য
উপাচার্য তৌফিক আলম শিক্ষকদের এ কর্মসূচিকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি শিক্ষকদের বলব, আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, অন্যের কাজ বাধাগ্রস্ত করার কোনো যুক্তি নেই। এটা করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড। আপনারা এ ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবি এখনো মেনে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে আমরা ক্লাসে ফিরব না।’



