সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সদরঘাট এলাকায় স্পিডবোট বা ছোট নৌযান থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি ফেরি পারাপারে নিরাপত্তা জোরদার করে তিনি বলেন, ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য ব্যারিকেড বসানো হবে, এবং যাত্রী নামানো ছাড়া কোনো বাস ফেরিতে প্রবেশ করতে পারবে না।
ঈদযাত্রা প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে এবার বৃষ্টির আশঙ্কাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃষ্টি হলে যানজট ও যাত্রীচাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটি
তিনি বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও সব মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছে। তবে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে। যাত্রীচাপ কমাতে পোশাক কারখানাগুলোতে তিন থেকে চার ধাপে ছুটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, এবং মালিকপক্ষ এতে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
গতবার ধাপে ধাপে ছুটির পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ফলে একদিনেই বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছিল। শুধু গাজীপুর ও আশপাশের এলাকাতেই প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ যাত্রীর চাপ তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যাত্রীচাপ ও বিশৃঙ্খলা
ঈদের সময় অনেক যাত্রী দ্রুত বাড়ি ফিরতে চেয়ে নিয়ম না মেনে যেকোনও যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে টিকিট কেটে যাত্রা করার প্রবণতা কম থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট তৈরি হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
বৃষ্টি ও নিরাপত্তা
বৃষ্টির প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার কারণে এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। বৃষ্টি হলে যানজট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে পশুবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে চাপ বেশি থাকবে। একই সঙ্গে খারাপ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ
ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সড়কের মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানামা করলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।



