রাজশাহীতে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমের ওপর হামলা, মামলা নিতে অস্বীকৃতি পুলিশের
রাজশাহীতে নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমের ওপর হামলা, মামলা নিতে অস্বীকৃতি

রাজশাহীতে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমের ওপর হামলা, মামলা নিতে অস্বীকৃতি পুলিশের

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম ভোটকেন্দ্রের সামনে হামলার শিকার হওয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ঘুমিয়ে আছেন এবং তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু কান্নাকাটি করছে। চিকিৎসকরা তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন এবং তিনি কানে শুনতে ও কথা বলতে কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হামলার ঘটনা ও পুলিশের ভূমিকা

গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে পবা উপজেলার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই হামলা ঘটে। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন পবার হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী। হামলার পর প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন, কিন্তু পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে আসার পর হামলাকারীদের সঙ্গে আলাপ করে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন।

মামলা দায়েরের জন্য আকবর হোসেন প্রথমে পবা থানায় যোগাযোগ করেন, কিন্তু ঘটনাস্থল নগরের কাটাখালী থানায় হওয়ায় তাঁকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গতকাল রাত আটটার দিকে কাটাখালী থানায় গেলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা মামলা না নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেন, ওসি না থাকার কথা উল্লেখ করে। পরে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও অবস্থা

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী জানান, রাতে একজন অভিযোগ করতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি এখনো সেটা দেখতে পারেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রজব আলী দাবি করেছেন যে হাবিবা বেগম ভোট চাওয়ায় তিনি নিষেধ করলে গালি দেন, তাই তিনি একটি থাপ্পড় মারেন। তবে আকবর হোসেন দাবি করেছেন যে তাঁর প্রার্থী কোনো গালি দেননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তিনি রাজশাহী জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের পর তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এই ঘটনায় নারী নির্যাতন ও নির্বাচনী সহিংসতার প্রশ্ন উঠেছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।