ভোটের আগে তীব্র হুঁশিয়ারি অমিত শাহের: তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে এক নির্বাচনী সভায় তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিলের ভোটের আগে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মোদী-শাহের যুগ্ম হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারের প্রায় প্রতিটি সভাতেই সিন্ডিকেটরাজ ও মাফিয়ারাজের অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর পাশাপাশি ‘সবকা হিসাব’ও হবে। ভোটের আগে শেষ দফার প্রচারে এই আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছেন তারা।
অমিত শাহ কুলটির সভায় বলেন, ‘তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা কান খুলে শুনে নিন— ২৩ তারিখ ভোটের দিন ঘর থেকে বেরোবেন না। বাইরে এসে গোলমাল করলে, ৪ মে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেউ আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নরেন্দ্র মোদীর পূর্ববর্তী সতর্কতা
এর আগে গত রোববার বাঁকুড়ার সভাতেও একই সুরে হুঁশিয়ারি দেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘বাংলার জনগণই আসল শক্তি। তারা আর অন্যায় সহ্য করবে না। পরিবর্তন চাইছে সবাই। সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতীদের শেষবারের মতো বলছি— ২৯ এপ্রিলের আগেই আত্মসমর্পণ করুন, সম্ভব হলে ২৩ তারিখের আগেই। কারণ ৪ মের পর আর রেহাই মিলবে না। বিষ্ণুপুরের মাফিয়া, কয়লা পাচারকারী—সবাই সাবধান হন, এই সব আর চলবে না।’
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
কুলটির সভা থেকে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও তোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘৫ মে বিজেপিকে সরকার গড়তে দিন। তারপর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে বাংলা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ এই বক্তব্যে তিনি বিজেপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই হুঁশিয়ারিগুলো ভোটের আগের শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতী ও মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তাদের এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



