জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক এডিসি শাহেন শাহকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহেসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও আদালতের আদেশ
ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান শাহেন শাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। এদিন শুনানিকালে শাহেন শাহকে আদালতে তোলা হয়। এরপর আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জামিন শুনানি ও নামঞ্জুর
এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে শাহেন শাহর জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী সরোয়ার হোসাইন (বিপ্লব)। শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে শাহেন শাহকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অর্ধাহারে-অনাহারে এবং অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। জামিন দিলে পলাতক হবেন না। তার জামিনের প্রার্থণা করছি। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১ টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।



